মঙ্গলবার , ১২ মে ২০২৬ , রাত ০৮:৫৭
ব্রেকিং নিউজ

‘নির্বাচনের আগে ভারতের সাথে সরকারের যোগাযোগ আরো বাড়বে’

রিপোর্টার : নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : শনিবার , ১ জুলাই ২০২৩ , রাত ০৮:৩০

সেপ্টেম্বরে ভারত যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।তবে তার আগেই জুলাইয়ের মাঝামাঝি আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে দলটির একটি রাজনৈতিক প্রতিনিধি দলের ভারত সফরের কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখা হাসিনা ভারতে জি-২০ সম্মেলনে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে যোগ দিবেন।বাংলাদেশসহ সদস্য নয় এমন নয়টি দেশ ওই সম্মেলনে পর্যবেক্ষক হিসেবে আমন্ত্রণ পেয়েছে।

শেখ হাসিনা ওই সম্মেলনে বক্তব্য রাখবেন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে ওই সময়ে তার বৈঠক হবে বলে ঢাকায় কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।বৈঠকটি সাইড লাইনে হলেও দু’দেশই বৈঠকটিকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

তবে জুলাইয়ের মাঝামাঝি ভারতীয় জনতা পার্টির(বিজেপি)আমন্ত্রণে আওয়ামী লীগের যে দলটি ভারত যাচ্ছে ওই দলে ওবায়দুল কাদের ছাড়াও কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক,তথ্যমন্ত্রী ড.হাছান মাহমুদসহ আরো সিনিয়র নেতারা থাকছেন।

আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এবং আন্তর্জাতিকবিষয়ক কমিটির সদস্য ড.সেলিম মাহমুদ বলেন,‘তারা আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে সেখানে যাচ্ছেন।ওই সফরকে আমরা রাজনৈতিকভাবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করছি।তার সফরের আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক গুরুত্ব আছে।’

আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার সাথে কথা বলে জানা গেছে,নির্বাচনের আগে ভারতের সাথে বাংলাদেশের সরকারের যোগাযোগ আরো বাড়বে।এটা সরকার ও দলীয় দু’পর্যায়েই।যে রাজনৈতিক দলটি জুলাইয়ে যাচ্ছে,তারা ভারত সরকার ছাড়া বিজেপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সাথে কথা বলবে ও বৈঠক করবে।মূল লক্ষ্য হলো আস্থার সম্পর্ক আরো বাড়ানো।দলের সাথে সম্পর্ক বাড়ানো।

জি-২০ মূলত বিশ্বের প্রধান প্রধান অর্থনীতির দেশগুলোর কৌশলগত বহুপাক্ষিক জোট।আগামী ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর ভারতের নয়াদিল্লিতে ২০ দেশের এ সংগঠনের শীর্ষ সম্মেলনে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ পেয়েছে বাংলাদেশ।এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করবে ভারত।ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশসহ নয়টি দেশকে সম্মেলনের অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

সাবেক রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল(অবসরপ্রাপ্ত)শহীদুল হক বলেন,নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রীর জন্য এ সফর খুবই গুরুত্বপূর্ণ।শুধু মোদি নয়,তিনি হয়ত আরো অনেক উন্নত দেশের সরকার প্রধানদের সাথে ওই সম্মেলনে গিয়ে কথা বলবেন।এটা একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক জোট।এটা নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রীকে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রের কাছে তার অবস্থান পরিষ্কার করতে সহায়তা করবে।

তিনি মনে করেন,‘আর মোদির সাথে তার বৈঠকের অবশ্যই আলাদা গুরুত্ব আছে।সেখানে নিশ্চয়ই এই অঞ্চলের রাজনীতি আসবে।’

তিনি বলছেন,‘জুলাইয়ে আওয়ামী লীগের যে রাজনৈতিক দলটি ভারতে যাচ্ছে সেটা আসলে দু’দেশ বা দু’দেশের রাজনৈতিক দলের বিষয়।এটার ভেতরে রাজনৈতিক হিসাব আছে।সামনে বাংলাদেশের নির্বাচন।সুতরাং অনেক হিসাব থাকবে।আওয়ামী লীগ ও বিজেপির মধ্যেও অনেক বিষয় থাকতে পারে।’

ড.সেলিম মাহমুদ বলেন,‘ভারতের সাথে আমাদের সম্পর্ক অনেক ভালো।অনেক আগে থেকেই এই সম্পর্ক।এ সময়ে নানা দিক থেকে ভারতের সাথে আমাদের এনগেজমেন্ট বাড়ছে।নির্বাচনের আগে আরো বাড়বে।জুলাইয়ে মাঝমাঝি দু’দিনের সফরে তাদের আমন্ত্রণে যে সিনিয়র নেতারা ভারতে যাচ্ছেন এটা গুরুত্বপূর্ণ।আমরা এটাকে অনেক গুরুত্ব দিচ্ছি।এর রাজনৈতিক গুরুত্ব আছে।’

তিনি আরো বলেন,‘আর প্রধানমন্ত্রী যে সেপ্টেম্বরের জি-২০ সম্মেলনে অতিথি হিসেবে যাচ্ছেন এর আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক গুরুত্ব আছে।আমরা এই সফরকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি।’

আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা জানান,নির্বাচনের আগে ভারতের সাথে দু’পর্যায়ে যোগাযোগ আরো বাড়ানো হবে।ভারত সরকারকে এ সময়ে আরো আরো কাছে পেতে চায় তারা।